নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের পথ এখন পরিষ্কার-মানুষের আস্থা অর্জন করা, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।’
গত শুক্রবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘শুরু থেকে আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। সে প্রতিশ্রুতিতে এখনো অটল। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বিগত মাসগুলোতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সেই অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা অনেকে আজ ব্যথিত এবং গভীরভাবে হতাশ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তন হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না। এটি ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য। আমরা নীতিবান, দায়িত্বশীল এবং শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করব; একই সঙ্গে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখব।’
তিনি আরো বলেন, ‘যে জাতি সদ্য তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত। জুলাই সনদ ছিল একেবারে সুস্পষ্ট, আর কোনো স্বৈরাচার নয়; না রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে, না কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে। এ দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, আবারও ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।’
হট লাইন : নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের কোথাও হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা হয়রানির ঘটনা ঘটলে তা সরাসরি জানাতে কেন্দ্রীয় হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনুন। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পারে পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নিশ্চিত করতে, কোনো নাগরিক যেন বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য না হন। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করতে হবে।
পোস্টে তিনি লেখেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা ভিন্নমত পোষণকারী নাগরিকদের ওপর কোনো ধরনের সহিংসতা হলে দ্রুত অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি জানান, অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্ত ও যাচাই করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। নম্বরটি হলো ০৯৬৩৯-১১১৪৪৪।